মহাত্মা গান্ধী অহিংস নীতি (Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy) কে নিজের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন।তিনি মনে করতেন অহিংসার দ্বারা সমস্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ও তার সমাধান সম্ভব।
মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির বৈশিষ্ট্য | Features of Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy
অহিংসা বলতে সাধারণত আমরা যেটা বুঝে থাকি তা হল হিংসার বিপরীত কিছু। আর তা হলো ভালোবাসা, অন্যের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ক্রোধ বর্জিত মানব সত্তা। এগুলির প্রত্যেকটি হল শান্তির এক একটি স্তম্ভ। শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেগুলির উপস্থিতি অত্যন্ত কাম্য।
গান্ধিজি সর্বদাই নিজেকে সত্যের পথে পরিচালিত করেছেন এবং সবাইকে তার পথের অনুগামী করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করতেন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অশান্তকে বর্জন করাই শ্রেয়। তাই তিনি উগ্রতাকে সরিয়ে রেখে সরলতাকে সকলের সামনে উপস্থাপনার কথা বলেছেন।
তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অহিংসাকে হাতিয়ার করা যায়। অহিংসার দ্বারা যুদ্ধের পরিস্থিতি এড়িয়ে শত্রুকে আঘাত না করে, সহানুভূতির সাহায্যে অন্যায়কারীর হৃদয়কে পরিবর্তন ঘটাতে পারা যায়।
মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ –
সত্যকে অনুসন্ধান
সত্যকে অনুসন্ধান হল মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি। সত্যের পথে যেতে হলে অহিংসাকে অবলম্বন করতে হয়। তিনি মনে করতেন সত্যের পথে থাকার একটি নির্ভরযোগ্য এবং শক্তিশালী পন্থা হলো অহিংসা। যার মাধ্যমে সততা ও সত্যের পথ প্রশস্থ হয়।
নির্যাতিতদের প্রতি সহানুভূতি
গান্ধীজি সর্বদাই যেমন সত্যকে অনুসন্ধান করেছেন এবং তিনি সত্যের পথে নিজের জীবনকে অতিবাহিত করেছেন। বরাবরই তিনি সহানুভূতিশীল তাই তিনি সর্বদা নির্যাতিতদের পাশে থেকেছেন। তাদেরকে উৎসাহিত করেছেন এবং তাদের হয়ে লড়াইয়ে নিজেকে উজাড় করেছেন।
নিরপেক্ষ বিচার
মহাত্মা গান্ধী মনে করতেন সবাইয়ের সমান অধিকার যেমন আছে তেমনি সবাইকে সম্মান দেওয়া ও সবাইয়ের জন্য সমান বিচার ও তাদের নিজস্ব মত প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ।
আত্ম শক্তির উপর বিশ্বাস
তার মতে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থেকে অন্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার শক্তি গড়ে ওঠে। অহিংসা ও সত্যের পথে থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্দীপনা ও সাহস সঞ্চার হয় ও সমাজকে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হওয়া যায়।
সত্যের প্রতি অবিচলতা
সত্যই হল অহিংসার একমাত্র পথ। তাই সত্যকে পাথেয় করে নিজের জীবনকে অতিবাহিত করার কথা গান্ধীজী সর্বদা বলেছেন। যে সত্যের মাধ্যমে অহিংসতাকে হাতিয়ার করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য সত্যের প্রতি নিজেকে অবিচল রাখার কথা গান্ধীজীর মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে।
স্ব নিয়ন্ত্রণ
গান্ধীজি মনে করতেন অহিংস নীতিকে অবলম্বন করতে হলে সবার প্রথম নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা অতি আবশ্যক। কারণ নিজের ক্রোধ, হিংসা, ঘৃণা, প্রতিশোধ ইত্যাদির মতন আচরণগুলির মাধ্যমে অহিংসকে কার্যকর করা সম্ভব নয়। তাই স্ব-নিয়ন্ত্রণকে মহাত্মা গান্ধী অহিংস নীতির একটি কার্যকরী আচরণ বলে মনে করছেন।
অন্যায়কারীর হৃদয় পরিবর্তন
গান্ধীজির অহিংসার দ্বারা শত্রুকে আঘাত না করে, তার প্রতি কোনরূপ আক্রমণ না করে বরং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তার কঠিন হৃদয় কে পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।
জীবনযাপন
গান্ধীজী মনে করেন যে অহিংসা প্রত্যেকটি জীবনে কার্যকরী হওয়া উচিত। তিনি মনে করতেন অহিংসা কেবলমাত্র এক নিছক পদ্ধতি নয় এটি জীবন যাপনেরও এক প্রকার পদ্ধতি বলা যেতে পারে।
মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির (Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy) ‘অহিংস’ হল এমনই এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা ও শান্তি কে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির (Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy) ‘অহিংস’ কেবল হিংসা-বর্জিত অবস্থা নয় বা অহিংস কোন দুর্বলতা নয়। বরং অহিংসার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হওয়া ও লড়াই করার মাধ্যমে যুদ্ধের পরিস্থিতিকে সামাল দিয়ে চরম সমস্যার সমাধান ঘটানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র (References)
- Conflict Resolution and Gandhian Ethics –Thomas Weber, Gandhi Peace Foundation, New Delhi, 1991.
- Peace Education: The Concept, Principles and Practices around the World – (eds.) Gabriel Solomon and Baruch Nevo, .
- Comprehensive Peace Education—Betty Reardon, Teachers College Press, 1988.
- Philosophical Perspectives of Peace – Howard P. Kainz
- Peace, War and Defence – (ed.) Johan Galtung
- Internet Sources
প্রশ্ন – অহিংসা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর – অহিংসা বলতে আমরা হিংসা-বর্জিত অবস্থাকে বুঝে থাকি। মহাত্মা গান্ধী সত্যকে অহিংসার পথ বলেছেন।
প্রশ্ন – অহিংস আন্দোলনের জনক কে?
উত্তর – অহিংস আন্দোলনের জনক হলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- Copi র যুক্তিবিদ্যার ১৯টি নিয়ম | Copi’s 19 Rules of Logic
- লকের মুখ্যগুণ ও গৌণগুণের মধ্যে পার্থক্য | Locke’s primary and secondary qualities
- বিজ্ঞান ও দর্শনের মধ্যে পার্থক্য | Difference between Science and Philosophy
- দ্রব্য সম্পর্কে লকের ধারণা | John Locke’s Concept of Substance Explained
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আধ্যাত্মিক আদর্শবাদ | Spiritual Idealism of Rabindranath Tagore





This article gave me exactly the information I was looking for.
The site is a great place to discover thoughtful,
informative content.
Excellent post.
Thank You so much for valuable comment. #edubitan.com