অব্যাপ্য হেতু দোষ কাকে বলে | Fallacy of Undistributed Middle

নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়ম লঙ্ঘন করলে যে দোষগুলি দেখা যায়, তাদের মধ্যে একটি হল অব্যাপ্য হেতু দোষ (Fallacy of Undistributed Middle)। হেতুপদকে দুটি আশ্রয়বাক্যর মধ্যে অন্তত একবার অবশ্যই ব্যাপ্য হতে হবে।

অব্যাপ্য হেতু দোষ | Fallacy of Undistributed Middle

যে সাধারন পদ আশ্রয়বাক্য দুটিতে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে উপস্থিত থাকে না। সেই পদকে হেতুপদ (Middle term) বলা হয়। হেতুপদকে সাংকেতিক চিহ্ন M দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ন্যায়ের অবয়ব তিনটি বচন দ্বারা গঠিত। প্রথম বচনটিকে প্রধান হেতু বাক্য বলা হয়। দ্বিতীয় বচনটিকে অপ্রধান হেতু বাক্য বলা হয়। তৃতীয়টি হল সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তটি হেতুবাক্য দুটির সম্মিলিত রূপ।

অব্যাপ্য হেতু দোষ

নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়ম অনুযায়ী হেতু পদকে দুটি হেতু বাক্যের যেকোনো একটিতে অন্তত একবার ব্যপ্য হতে হবে। কোন যুক্তিতে হেতুপদ দুবার ব্যপ্য হতে পারে। অর্থাৎ সাধ্য আশ্রয়বাক্য ও পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হতে পারে। কিন্তু কোন আশ্রয় বাক্যেই যদি হেতুপদ ব্যাপ্য না হয় তবে অব্যপ্য হেতু দোষ (Fallacy of Undistributed Middle) ঘটবে।

অব্যাপ্য হেতু দোষ হল যুক্তির একটি ত্রুটি যেখানে হেতুপদ (Middle term) অন্তত একটি আশ্রয়বাক্যে (প্রধান আশ্রয়বাক্যে বা অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে) ব্যাপ্য না হলে এই অব্যাপ্য হেতু দোষ (Fallacy of Undistributed Middle) ঘটে।

অন্যভাবে বলতে গেলে, যদি হেতুপদ সম্পূর্ণ পক্ষ বা সম্পূর্ণ সাধ্যের সাথে সম্পর্কিত না হয়, তাহলে যুক্তিটি অবৈধ হবে এবং অব্যাপ্য হেতু দোষে (Fallacy of Undistributed Middle) দুষ্ট হবে।

  • সমস্ত মানুষ মরণশীল। সব জীব মরণশীল। সুতরাং সব জীব মানুষ।

যুক্তিটির আকারঃ

প্রধান আশ্রয়বাক্য A সকল মানুষ হয় মরণশীল।

প্রধান আশ্রয়বাক্য  A সকল জীব হয় মরণশীল।

সিদ্ধান্ত .’. A সকল জীব হয় মানুষ।

যুক্তিটি অবৈধ এবং যুক্তিটি অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট হয়েছে। কারণ যুক্তিতে হেতুপদ ‘মরণশীল’ A বচনের বিধেয় পদ হওয়ার কারণে তা অব্যপ্য হয়েছে। যা কিনা ন্যায়ের নিয়মবিরুদ্ধ। নিয়ম অনুযায়ী হেতুপদকে আশ্রয়বাক্য দুটির অন্তত একটিতে অবশ্যই ব্যাপ্য হতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে অব্যাপ্য হেতু দোষ ঘটবে। আর এই যুক্তিতে উক্ত নিয়ম লঙ্ঘন হওয়ায় অব্যাপ্য হেতু দোষ (Fallacy of Undistributed Middle) ঘটেছে।

এই যুক্তিটি অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট কারণ হেতুপদ ‘মরণশীল’ প্রধান আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয়। প্রধান আশ্রয়বাক্যে “মানুষ” শব্দটি “মরণশীল” শব্দের চেয়ে সংকীর্ণ।

  • সব গরু তৃণভোজী। সব ঘোড়া তৃণভোজী। এর থেকে বলা যায়, সব ঘোড়া হয় গরু।

যুক্তিটির আকারঃ

প্রধান আশ্রয়বাক্য A সকল গরু হয় তৃণভোজী।

প্রধান আশ্রয়বাক্য  A সকল ঘোড়া হয় তৃণভোজী।

সিদ্ধান্ত .’. A সকল ঘোড়া হয় গরু।

এক্ষেত্রেও যুক্তিটি অবৈধ এবং অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট হয়েছে। কারণ যুক্তিতে হেতুপদ ‘তৃণভোজী’ A বচনের বিধেয় পদ হওয়ার কারণে তা অব্যপ্য হয়েছে। অর্থাৎ ন্যায়ের নিয়মবিরুদ্ধ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী হেতুপদকে আশ্রয়বাক্য দুটির অন্তত একটিতে অবশ্যই ব্যাপ্য হতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে অব্যাপ্য হেতু দোষ ঘটবে। আর এই যুক্তিতে উক্ত নিয়ম লঙ্ঘন হওয়ায় অব্যাপ্য হেতু দোষ (Fallacy of Undistributed Middle) ঘটেছে।

এই যুক্তিটিও অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট কারণ হেতুপদ ‘তৃণভোজী’ গৌণ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয়। গৌণ আশ্রয়বাক্যে ‘ঘোড়া’ শব্দটি ‘তৃণভোজী’ শব্দের চেয়ে সংকীর্ণ।

অব্যাপ্য হেতু দোষ এড়ানোর উপায় –

  • হেতুপদকে অন্তত একটি আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হতে হবে।
  • পক্ষ এবং সাধ্যের পরিধি স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।
  • যুক্তির গঠন এবং ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করতে হবে।

উপসংহার

উল্লেখ্য অব্যাপ্য হেতু দোষ যুক্তির একটি সাধারণ ত্রুটি। সচেতন থাকলে এই ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।অব্যাপ্য হেতু দোষ ল্যাটিন ভাষায় “Fallacy of Undistributed Middle” নামে পরিচিত।অব্যাপ্য হেতু দোষ ন্যায় শাস্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অব্যাপ্য হেতু দোষের কারণে যুক্তির সিদ্ধান্তটি ভুল হতে পারে। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আরোও পড়ুন – Click here

তথ্যসূত্র (References)

  • History of Western Philosophy: B. Russell
  •  History of Modern Philosophy: R. Falckenberg
  • Encyclopedia of Philosophy: P. Edwards (ed.)
  • The Fundamental Questions of Philosophy: A.C. Ewing
  • Internet Sources

প্রশ্ন – হেতু পদ বলতে কী বোঝো?

উত্তর – যে সাধারন পদ আশ্রয়বাক্য দুটিতে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে উপস্থিত থাকে না তাকে হেতুপদ বলে।

প্রশ্ন – আংশিক ন্যায়কে ন্যায় অনুমানে কি বলা হয়?

উত্তর – আংশিক ন্যায়কে ন্যায় অনুমানে সংক্ষিপ্ত ন্যায় বলা হয়।

প্রশ্ন – নিরপেক্ষ ন্যায় কখন বৈধ হয়?

উত্তর – নিরপেক্ষ ন্যায় তখনই বৈধ হয়, যখন ন্যায়ের নিয়মগুলিকে যথাযথভাবে মান্য করা হয়।

Leave a Comment