যুক্তিবিজ্ঞানে চারিপদ ঘটিত দোষ যার অন্য একটি নাম চতুষ্পদী দোষ (Fallacy of Four Terms)। এই দোষ কোন নিরপেক্ষ ন্যায়ে তখনই সম্ভব যখন তিনটি পদের পরিবর্তে চারটি পদ উপস্থিত থাকে।
চতুষ্পদী দোষ যুক্তিবিজ্ঞানের একটি ত্রুটি যা একটি ভুল যুক্তি তৈরি করে। এটি ঘটে যখন একটি ন্যায় অনুমানে তিনটির পরিবর্তে চারটি পদ ব্যবহার করা হয়।
চারিপদ ঘটিত দোষ বা চতুষ্পদী দোষ (Fallacy of Four Terms)
নিরপেক্ষ ন্যায় গঠনের জন্য ও ন্যায়ের বৈধতা এবং অবৈধতা বিচার করার জন্য কতকগুলি নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এই নিয়মগুলিকে ন্যায় -এর সাধারণ নিয়ম বলা হয়।
এই নিয়মের প্রথম হল একটি বৈধ ন্যায়ে তিনটি পদ থাকবে। তিনটির কমও থাকবে না, আবার তিনটির বেশিও থাকবে না। এই তিনটি পদ হল – পক্ষপদ, সাধ্যপদ ও হেতুপদ।
এই তিনটি পদের কোন একটি যদি কম থাকে বা অনুপস্থিত থাকে তখন তাকে আর ন্যায় অনুমান হিসেবে অভিহিত করা যাবে না। অথবা তিনটির অতিরিক্ত পদ যদি কোন অনুমানে থাকে তখন সেই ন্যায়টিকে চারিপদ ঘটিত দোষ বা চতুষ্পদী দোষে দুষ্ট বলা হবে।
- হীরা সোনার চেয়ে দামি। সোনা তামার চেয়ে দামি। সুতরাং, হীরা তামার চেয়ে দামি।
যুক্তিটির আকার –
প্রধান হেতুবাক্য: হীরা হয় সোনার চেয়ে দামি।
অপ্রধান হেতুবাক্য: সোনা হয় তামার চেয়ে দামি।
সিদ্ধান্ত: .’. হীরা হয় তামার চেয়ে দামি।
এই যুক্তিতে চারটি পদ রয়েছে:
১) হীরা
২) সোনার চেয়ে দামি
৩) সোনা
৪) তামার চেয়ে দামি
যুক্তিটি চারিপদ ঘটিত দোষ বা চতুষ্পদী দোষে দুষ্ট। এই যুক্তিতে তিনটি পদের অতিরিক্ত পদের অবস্থান রয়েছে। ন্যায়ের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী একটি বৈধ ন্যায়ে তিনটি পদ থাকবে কিন্তু এখানে তিনটির অধিক অর্থাৎ চারটি পদ রয়েছে।
প্রথমত- হীরা, দ্বিতীয়ত- সোনার চেয়ে দামি, তৃতীয়ত- সোনা এবং চতুর্থত- তামার চেয়ে দামি। এই চারটি পদ থাকায় যুক্তিটি অবৈধ এবং এক্ষেত্রে চারিপদ ঘটিত দোষ দুষ্ট হয়েছে।
যুক্তিটির ক্ষেত্রে পরপর প্রধান আশ্রয়বাক্য, অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ের ভিত্তিতে হীরা, সোনা, সোনার চেয়ে দামী এবং এর অতিরিক্ত পদ তামার চেয়ে দামি।যেহেতু সোনা এবং সোনার চেয়ে দামি দুটি কিন্তু আলাদা পদ। এক্ষেত্রে তাই চতুষ্পদী দোষ ঘটেছে।
- ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ পাপ সৃষ্টি করেছে। অতএব, ঈশ্বরই পাপ সৃষ্টি করেছেন।
যুক্তিটির আকার –
প্রধান হেতুবাক্য: ঈশ্বর হয় মানুষের স্রষ্টা।
অপ্রধান হেতুবাক্য: মানুষ হয় পাপের স্রষ্টা।
সিদ্ধান্ত: .’. ঈশ্বর হয় পাপের স্রষ্টা।
এই ন্যায় অনুমানটি অবৈধ কারণ এতে চারটি পদ রয়েছে।
এই যুক্তিতেও চারটি পদ রয়েছে।তাই যুক্তিটি চারিপদ ঘটিত দোষ বা চতুষ্পদী দোষে দুষ্ট। এই যুক্তিতে তিনটি পদের অতিরিক্ত পদের অবস্থান রয়েছে। ন্যায়ের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী একটি বৈধ ন্যায়ে তিনটি পদ থাকবে কিন্তু এখানে তিনটির অধিক অর্থাৎ চারটি পদ রয়েছে।
প্রথমত- ঈশ্বর, দ্বিতীয়ত- মানুষের স্রষ্টা, তৃতীয়ত- মানুষ এবং চতুর্থত- পাপের স্রষ্টা। এই চারটি পদ থাকায় যুক্তিটি অবৈধ এবং এক্ষেত্রে চারিপদ ঘটিত দোষ দুষ্ট হয়েছে।
যুক্তিটির ক্ষেত্রে পরপর প্রধান আশ্রয়বাক্য, অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ের ভিত্তিতে ঈশ্বর, মানুষের স্রষ্টা, মানুষ এবং এর অতিরিক্ত পদ পাপের স্রষ্টা।যেহেতু মানুষ এবং মানুষের স্রষ্টা দুটি কিন্তু আলাদা পদ। এক্ষেত্রে তাই চতুষ্পদী দোষ ঘটেছে।
চতুষ্পদী দোষের কারণ:
চতুষ্পদী দোষ হলো যুক্তিবিদ্যায় একটি ত্রুটি যা তখন ঘটে যখন একটি ন্যায় অনুমানে চারটি পদ ব্যবহার করা হয়। ন্যায়শাস্ত্র অনুসারে, একটি বৈধ ন্যায় অনুমানে শুধুমাত্র তিনটি পদ থাকতে পারে:
- প্রধান আশ্রয়বাক্য: যে বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
- হেতুপদ: যে কারণ বা প্রমাণ প্রধান আশ্রয়বাক্যকে সমর্থন করে।
- অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: যে বিষয় হেতুপদের সাথে সম্পর্কিত।
এই ন্যায় অনুমানটি বৈধ কারণ এতে শুধুমাত্র তিনটি পদ রয়েছে।
চতুষ্পদী দোষ এড়ানোর উপায়:
চতুষ্পদী দোষ এড়ানোর জন্য, একটি ন্যায় অনুমানে কেবলমাত্র তিনটি পদ ব্যবহার করা উচিত।
উপসংহার
উল্লেখ্য চারিপদ ঘটিত দোষ যুক্তির একটি সাধারণ ত্রুটি। সচেতন থাকলে এই ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।চারিপদ ঘটিত দোষ যা আবার চতুষ্পদী দোষ নামেও পরিচিত।চারিপদ ঘটিত দোষ বা চতুষ্পদী দোষ ন্যায় শাস্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।এই যুক্তির সিদ্ধান্তটি ভুল হতে পারে। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
তথ্যসূত্র (References)
- History of Western Philosophy: B. Russell
- History of Modern Philosophy: R. Falckenberg
- Encyclopedia of Philosophy: P. Edwards (ed.)
- Internet Sources
প্রশ্ন – সংক্ষিপ্ত ন্যায় কয় প্রকার?
উত্তর – সংক্ষিপ্ত ন্যায় চার প্রকার।
প্রশ্ন – অনুমানে আংশিক ন্যায় কে কি বলা হয়?
উত্তর – অনুমানে আংশিক ন্যায়কে সংক্ষিপ্ত ন্যায় বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গিতে মানবতাবাদ | Discuss the Tagore Humanism
- মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো | Features of Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy
- কান্টের নৈতিকতা ও শান্তির মধ্যে সম্পর্ক | Kant’s Relationship Between Morality and Peace
- ব্যাপ্তি কাকে বলে | ব্যাপ্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় | What is Vyapti
- দর্শনের স্বরূপ আলোচনা করো | The Nature of Philosophy