বচনের বিরোধিতা হল পাশ্চাত্য যুক্তিবিজ্ঞানের একটি অন্যতম অধ্যায়। বচনের বিরোধিতার ক্ষেত্রে অসম বিরোধিতা ও অধীন বিপরীত বিরোধিতার পার্থক্য (Difference Between Sub-altern and Sub-Contrary Opposition) লক্ষ্যণীয়।
পাশ্চাত্য যুক্তিবিজ্ঞানকে জানতে হলে কেবল বচনকে নয় তাদের বিরোধীতাকে ও জানতে হয়। এবং সেই বিরোধীতার সঙ্গে অন্যান্য বিরোধিতার কিরূপ সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য তা বিচার করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
অসম বিরোধিতা ও অধীন বিপরীত বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্য | Difference Between Sub-altern and Sub-Contrary Opposition
অসম বিরোধিতা ও অধীন বিপরীত বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্য (Difference Between Sub-altern and Sub-Contrary Opposition) করার পূর্বে উভয় বিরোধিতার বিশেষ পর্যালোচনা করা দরকার।উক্ত দুই বিরোধিতার সংক্ষিপ্ত রূপ নিম্নে উল্লেখিত হল –
দুটি বচনের মধ্যে অসম বিরোধিতার সম্পর্ক রয়েছে তখনই বলা যাবে, যখন বচন দুটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় একই হবে এমন দুটি নিরপেক্ষ বচনের মধ্যে যদি কেবল পরিমাণের পার্থক্য থাকে কিন্তু গুণের নয়।অসম বিরোধিতার সম্বন্ধ রয়েছে A-I এবং E-O বচনের মধ্যে।
১) অসম বিরোধিতা হতে গেলে যে শর্তগুলি আবশ্যক –
২) দুটি নিরপেক্ষ বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক হতে হবে।
৩) বচন দুটির গুণ একই থাকবে। দুটি বচন-ই হ্যাঁ বাচক হবে অথবা দুটি বচন-ই না বাচক হবে।
৪) বচন দুটির মধ্যে পরিমাণের পার্থক্য থাকবে। অর্থাৎ একটি সার্বিক হলে অন্যটি বিশেষ হবে অথবা একটি বিশেষ হলে অন্যটি সার্বিক হবে।
দুটি বচনের মধ্যে অধীন বিপরীত বিরোধিতার সম্পর্ক রয়েছে তখনই বলা যাবে, যখন বচন দুটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় একই হবে এমন দুটি বিশেষ বচনের মধ্যে যদি গুণের পার্থক্য থাকে। অধীন বিপরীত বিরোধিতার সম্বন্ধ রয়েছে I এবং O বচনের মধ্যে।
সুতরাং বলা যায় অধীন বিপরীত বিরোধিতা হতে গেলে –
১) সম্বন্ধটি দুটি নিরপেক্ষ বচনের মধ্যে হতে হবে।
২) অধীন বিপরীত বিরোধিতার বচন দুটির উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদকে এক এবং অভিন্ন হতে হবে।
৩) এই বিরোধিতায় উভয় বচন বিশেষ বচন হবে
৪) এই বিরোধিতার ক্ষেত্রে বচন দুটির গুণ ভিন্ন হবে। অর্থাৎ একটি সদর্থক হলে অন্যটি নঞর্থক হবে আবার একটি নঞর্থক হলে অন্যটি সদর্থক হবে।
অসম বিরোধিতা ও অধীন বিপরীত বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্য
অসম বিরোধিতায় দুটি বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকে আবার অধীন বিপরীত বিরোধিতার ক্ষেত্রেও দুটি বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় একই থাকে। তবে দুটি বিরোধিতার মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে তা নিম্নে আলোচনা করা হল –
i) অসম বিরোধিতার ক্ষেত্রে দুটি বচনের একটি সার্বিক ও অন্যটি বিশেষ হয়।
কিন্তু অধীন বিপরীত বিরোধিতার ক্ষেত্রে দুটি বচনই বিশেষ বচন হয়।
ii) অসম বিরোধিতার ক্ষেত্রে দুটি বিরোধী বচনের গুণ এক থাকে। অর্থাৎ, হয় দুটি বচন-ই সদর্থক হয় অথবা দুটি বচনই নঞর্থক হয়।
কিন্তু অধীন বিপরীত বিরোধিতার ক্ষেত্রে দুটি বিরোধী বচনের গুণ আলাদা অর্থাৎ ভিন্ন হয়। যদি এদের একটি সদর্থক হয় তাহলে অন্যটি নঞর্থক হয় অথবা একটি নঞর্থক হলে অন্যটি সদর্থক হয়।
উপসংহার
অতএব কেবল বচনের বিরোধীতাই নয় তার বিভেদ এবং অন্যান্য বিরোধীতার সাথে তাদের পার্থক্য এসবই উল্লেখযোগ্য। এবং অসম বিরোধিতা ও অধীন বিপরীত বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্য (Difference Between Sub-altern and Sub-Contrary Opposition) থাকলেও তাদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বর্তমান।
তথ্যসূত্র (References)
- A Critical History of Greek Philosophy: W.T. Stace
- Encyclopedia of Philosophy: P. Edwards (ed.)
- History of Western Philosophy: B. Russell
- History of Modern Philosophy: R. Falckenberg
- A Critical History of Modern Philosophy: Y.H. Masih
- Internet Sources
প্রশ্ন – অ্যারিস্টটলের মতে অধীন বিপরীত বিরোধিতা কেমন ?
উত্তর – অ্যারিস্টটল অধীন বিপরীত বিরোধিতাকে প্রকৃত বিরোধিতা বলে স্বীকার করেননি। কারণ অনেক সময় I এবং O বচন উভয়ই একইসঙ্গে সত্য হতে পারে। কিন্তু অ্যারিস্টটল মনে করেন দুটি বিরোধী বচন একই সাথে সত্য হতে পারে না।
প্রশ্ন – সাবেকি মতে বচনের বিরোধিতা কয় প্রকার ?
উত্তর – সাবেক মতে, বছরের বিরোধিতা চার প্রকার।
প্রশ্ন – বিরুদ্ধ বিরোধীতায় দুটি বচন কি একই সাথে সত্য হতে পারে ?
উত্তর – না, একই সাথে দুটি বচন বিরুদ্ধ বিরোধিতায় সত্য হতে পারে না।
প্রশ্ন – কোন কোন বিরোধীতায় শুধুমাত্র গুণের পার্থক্য আছে ?
উত্তর – বিপরীত বিরোধিতায় ও অধীন বিপরীত বিরোধিতায় শুধুমাত্র গুণের পার্থক্য থাকে।
প্রশ্ন – বচনের বিরোধিতার আবশ্যিক শর্ত কি ?
উত্তর – বচনের বিরোধিতার আবশ্যিক শর্ত হল – সমজাতীয় দুটি নিরপেক্ষ বচনের মধ্যে গুণ, অথবা পরিমান, অথবা গুণ ও পরিমাণ উভয়ের পার্থক্য।
প্রশ্ন – অধীন বিপরীত বিরোধিতার অপর নাম কি ?
উত্তর – অধীন বিপরীত বিরোধিতার অপর নাম হল অনুবিষমতা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গিতে মানবতাবাদ | Discuss the Tagore Humanism
- মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো | Features of Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy
- কান্টের নৈতিকতা ও শান্তির মধ্যে সম্পর্ক | Kant’s Relationship Between Morality and Peace
- ব্যাপ্তি কাকে বলে | ব্যাপ্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় | What is Vyapti
- দর্শনের স্বরূপ আলোচনা করো | The Nature of Philosophy