প্রত্যয় বা ধারণার উৎস লেখো | Write the Source of Concept or idea

জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে জ্ঞান কি তা জানতে প্রত্যয় বা ধারণার উৎস (Source of Concept or idea) কোথা থেকে তা জানা একান্ত আবশ্যক।

জ্ঞানতত্ত্বের বিশেষ উল্লেখযোগ্য আলোচ্য বিষয় হল প্রত্যয় (Concept) বা ধারণা (Idea)। কারণ প্রত্যয় বা ধারণা হল জ্ঞানের আবশ্যিক শর্ত।

প্রত্যয় বা ধারণা | Concept or Idea

জ্ঞানতত্ত্ব কি জানতে হলে প্রত্যয় কি জানা প্রয়োজন। তাই জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনার পূর্বে প্রত্যয়ের স্বরূপ জানার প্রয়োজন।
জ্ঞান কাকে বলে? জ্ঞান কোথা থেকে উৎপত্তি? জ্ঞানের স্বরূপ কি? এই সমস্ত প্রশ্ন জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনার বিষয়।

জ্ঞানতত্ত্বের এরূপ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের সবার আগে প্রত্যয় বা ধারণার (Concept or Idea) স্বরূপ কে জানা প্রয়োজন।
জ্ঞানের ক্ষেত্রে আবশ্যিক শর্ত হল ধারণা বা প্রত্যয় (Concept or Idea)। সুতরাং ধারণা বা প্রত্যয় হল এমন শর্ত যা না থাকলে, কোন কিছুর জ্ঞান হয়েছে, এমনটা আমরা বলতে পারব না।

কোন কিছু জ্ঞান আমরা প্রকাশ করি বচনের মাধ্যমে।যেমন –

আমি জানি যে, ‘পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে’
আমি জানি যে, ‘১+১ = ২’

উপরোক্ত বা এরূপ বচনের ক্ষেত্রে তার অর্থ আমাদের আগে বুঝতে হবে। এ জাতীয় বচনের অর্থ বুঝতে হলে, এমন কি কোন বচন যদি মিথ্যাও হয়, তাই আমাদের উক্ত বিষয়ের প্রত্যয় বা ধারণা (Concept or Idea) থাকা প্রয়োজন।

‘জল’ এবং ‘জীবন’ সম্পর্কে যদি আমাদের কোন ধারণা না থাকে, তাহলে আমরা বলতে পারব না ‘জলের অপর নাম জীবন’। বচনটির অর্থ আমাদের কাছে বোধগম্য হতে পারবেনা। ‘জলের অপর নাম জীবন’ বচনটির অর্থ বুঝতে গেলে সবার প্রথমে আমাদের ‘জল’ এবং ‘জীবন’ শব্দ দুটির অর্থকে জানা প্রয়োজন। আর এই অর্থকে জানা বলতে যা বোঝায় তা হল সে বিষয় সম্পর্কে প্রত্যয় বা ধারণা (Concept or Idea) থাকা। সুতরাং সমগ্র বিষয়টিকে এভাবে আমরা বলতে পারি যে –

১. বচনের মাধ্যমে প্রকাশ পায় জ্ঞান।
২. প্রত্যয় বা ধারণা থাকা, এর অর্থ হল শব্দের অর্থবোধ হওয়া।
৩. আবার ধারণা বা প্রত্যয় না থাকলে কোন কিছুর জ্ঞান হওয়াটা অসম্ভব।
৪. সুতরাং জ্ঞানের আবশ্যিক শর্ত হল প্রত্যয় বা ধারণা।

প্রত্যয় বা ধারণার উৎস | Source of Concept or idea

কিভাবে আমরা জ্ঞান লাভ করি? প্রত্যয় বা ধারণার উৎস কি (Source of Concept or idea)? এ প্রসঙ্গে পূর্বের একটি অভিমত আছে –

প্রত্যয় বা ধারণা (Concept or Idea) সম্পর্কে পূর্বের অভিমতটি হল – অন্তত কিছু ধারনা সহজাত বা মনোজাত। এই মত অনুসারে ‘লাল’ ‘নীল’এর মত ধারণাগুলি অভিজ্ঞতালব্ধ হলেও ‘কারণ’, ‘ঈশ্বরের’ মতন এরূপ ধারণাগুলি সহজাত।

বর্তমানকালে অনেকেই এই সহজাত ধারণাতত্ত্বকে মান্যতা দেননি, বরং তারা বলেন যে সব ধারণাই অভিজ্ঞতালব্ধ। এরা মনে করেন ‘কারণের’ ধারণাটি আসলে অভিজ্ঞতালব্ধ। কেননা ‘কারণ’ নামক কোন কিছুর অভিজ্ঞতা না থাকলে ‘কারণের’ ধারণাটি আমাদের হয় না।

এক্ষেত্রে মনে হওয়া স্বাভাবিক ঈশ্বরের ধারণাটিকে আমরা কিভাবে অভিজ্ঞতালব্ধ বলতে পারি ? যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মেনেও নিই, তাহলেও সেই ঈশ্বরকে আমরা প্রত্যক্ষ করতে পারবো না। ঈশ্বর যেহেতু অপ্রত্যক্ষগোচর তাই তার ধারণাকে কিভাবে আমরা অভিজ্ঞতালব্ধ বলতে পারি এ বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়।

এ প্রসঙ্গে ধারণতত্ত্বের বিরোধীরা বলেন যে, যদিও ঈশ্বরকে আমরা কেউ প্রত্যক্ষ করি না তা সত্ত্বেও ঈশ্বরের ধারণাটি আমরা গঠন করতে পারি মানুষের মধ্যে জ্ঞান, শক্তি, করুণা, ভক্তি ও বিশ্বাস ইত্যাদির প্রত্যক্ষ করে।

সাম্প্রতিককালে তাই একপক্ষ এমনটা বলেন যে আমাদের অধিকাংশ ধারণা ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতালব্ধ হলেও কিছু ধারণা আছে যা সহজাত।

আরোও পড়ুন – Click here

উপসংহার

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, প্রত্যয় বা ধারণা হল জ্ঞানের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। জ্ঞান বা প্রত্যয় ছাড়া জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা একেবারেই অসম্পূর্ণ।প্রত্যয় বা ধারণা (Concept or Idea) মানুষের মনস্তাত্ত্বিক উপাদান যা জ্ঞান, বিশ্বাস, বা চিন্তাকে প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র (References)

  • An Introduction to Philosophical Analysis : J. Hospers
  • An Introduction to Philosophy : Shibapada Chakraborty
  • The Fundamental Questions of Philosophy: A. C Ewing
  • The Fundamentals of Philosophy: D. L. Das
  • Problems of Philosophy: G Watts Cunnigham
  • A History of Modern Philosophy: W. K. Wright
  • Internet Sources

প্রশ্ন – একজন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকের নাম লেখ।

উত্তর – হিউম (Hume) হলেন একজন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক।

Leave a Comment