অবরোহ যুক্তিবিজ্ঞানের অন্যতম নিরপেক্ষ বচনকে কেবল জানলেই হয় না, তার শ্রেণীবিভাগকেও জানতে হয়। গুণ ও পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিভাগ কে নিরপেক্ষ বচনের চতুর্বর্গ পরিকল্পনা (4 Types of Categorical Proposition) ও বলা হয়।
গুণ ও পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিভাগ বা চতুর্বর্গ পরিকল্পনা | 4 Types of Categorical Proposition
গুণ ও পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিভাগ (Four Fold Scheme of Categorical Proposition) বা বিন্যাস করার আগে, আমরা গুন অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিভাগ এবং পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিভাগকে জানবো।
গুণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন
গুণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন দুই প্রকার – সদর্থক ও নঞর্থক। নিরপেক্ষ বচন সদর্থক হয় যখন বচনটির উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের সম্বন্ধটি সদর্থক হয়। অর্থাৎ বচনটির বিধেয় পদ যদি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে কিছু স্বীকার করে তখন তাকে সদর্থক বলা হয়।
নিরপেক্ষ বচন নঞর্থক হয় যখন বচনের উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের সম্বন্ধটি নঞর্থক হয়। অর্থাৎ বচনটির বিধেয় পদ যদি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে কোন কিছু অস্বীকার করে তবে বচনটি নঞর্থক বলা হয়।
গুণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন দুই প্রকার হতে পারে হ্যাঁ বাচক এবং নাবাচক
যখন উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদের মধ্যে স্বীকৃতির সম্বন্ধ প্রকাশিত হয় তখন তাকে হ্যাঁ বাচক বচন বলে। তখন বচনটিকে হ্যা বাচক বচন বলা হয়। এই হায়ার বাচকের স্বীকৃতির চিহ্ন গুলি হল – ‘হয়’, ‘হই’, ‘হও’ ইত্যাদি। সংযোজক হিসেবে উদ্দেশ্য ও বিদ্রোহ পদের মধ্যবর্তী স্থানে এই চিহ্ন গুলির কোন একটি থাকলেই নিরপেক্ষ বচনটি হ্যাঁ বাচক হয়ে যায়।
যেমন – ‘রাম হয় মানুষ’ এই বচনটি হ্যাঁ বাচক। কারণ এখানে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যবর্তী স্থানে সংযোজকটি ‘হয়‘ অর্থাৎ সদর্থক সম্বন্ধের স্বীকার করা হয়েছে।
আবার, ‘কোন কোন ফুল হয় সাদা’ এটিও একটি সদর্থক বচনের উদাহরণ। এখানে হয় সংযোগটি দ্বারা কোন কোন ফুলের সাদা রং কে স্বীকার করা হচ্ছে। তাই বচনটি হ্যাঁ বাচক বচন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
যখন নিরপেক্ষ বচনের উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের মধ্যে অস্বীকৃতির সম্বন্ধ প্রকাশিত হয় তখন তা হয় না বাচক বচন। এই না বাচক বা অস্বীকৃতি সম্বন্ধ প্রকাশিত করা হয় যে তিনটি চিহ্ন দিয়ে তা হল – ‘নই’, ‘ নও’, ‘নয়’ ।
এই তিনটি অস্বীকৃতির চিহ্ন সংযোজক হিসেবে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মাঝখানে এদের কোন একটি থাকলেই নিরপেক্ষ বচনটি নাবাচক বচনে পরিণত হয়।
যেমন – কোন পাখি নয় মানুষ বচনটি হল না বাচক। কারণ এই ‘নয়‘ সংযোজকটি দ্বারা উদ্দেশ্য পদটি বিধেয় পদ সম্পর্কে অস্বীকার করছে।
আবার, কোন কোন ছাত্র নয় পরিশ্রমী এটিও একটি নাবাচক বচন। এক্ষেত্রে ‘ নয়‘ সংযোজক টি দ্বারা উদ্দেশ্য পদটি বিধেয়পদ সম্পর্কে অস্বীকার করছে।
পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন
পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন দুই প্রকার – সার্বিক বা সামান্য বচন এবং বিশেষ বচন। নিরপেক্ষ বচন সার্বিক হবে, যখন এই বচনের বিধেয়পদ সমগ্র উদ্দেশ্যপদ নির্দেশিত শ্রেণি সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে।
নিরপেক্ষ বচন বিশেষ হবে, যখন বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ নির্দেশিত শ্রেণীর আংশিক সদস্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে।
যে নিরপেক্ষ বচনে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের দ্বারা নির্ধারিত জাতি বা শ্রেণীর সমগ্র বা অংশ সম্পর্কে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক বচন বলে।
যেমন – সকল কাক হয় কালো এটি একটি সামান্য বা সার্বিক বচন। এখানে বিধেয় পদ ‘কালো’ দ্বারা সমগ্র ‘কাক’ জাতিকে স্বীকার করা হয়েছে। তাই এটি একটি সার্বিক বচনে রূপান্তরিত হয়েছে।
আবার, কোন শিশু নয় অসৎ এটিও একটি সার্বিক বচন। এক্ষেত্রে অসৎ পথ টিকে সমগ্র শিশু জাতি সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। তাই এটি একটি সার্বিক বচন বা সামান্য বচন।
যে নিরপেক্ষ বচনে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের দ্বারা নির্ধারিত জাতি বা শ্রেণীর একটি অংশ সম্পর্কে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তখন তাকে বিশেষ বচন বলে।
যেমন – কোন কোন মানুষ হয় কবি, এটি একটি বিশেষ বচন। এখানে কবি পদটি মানুষ জাতির অন্তর্ভুক্ত কয়েকজনের সম্পর্কে স্বীকার করা হয়েছে। তাই এটি একটি বিশেষ বচনে রূপান্তরিত হয়েছে।
আবার, কোন কোন আম নয় টক, এটি একটি বিশেষ বচন। কারণ এখানে টক পথটি আমজাতির অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি সম্পর্কে অস্বীকার করেছে। তাই এটি একটি বিশেষ বচন।
গুণ ও পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন
গুণ এবং পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনকে শ্রেণীবিভাগ (4 Types of Categorical Proposition) করতে গিয়ে আমরা প্রথমে গুণ অনুযায়ী নিরপেক্ষ বচনকে শ্রেণীবিভাগ এবং পরবর্তীতে পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনকে শ্রেণীবিভাগ করেছি। কাজেই এসবের ভিত্তিতে গুণ ও পরিমানকে সংযুক্ত করে বা একত্রিত করে চার রকম নিরপেক্ষ বচন আমরা পেয়ে থাকি –
পরিমাণ = সার্বিক, বিশেষ
+
গুণ = সদর্থক, নঞর্থক
১) সার্বিক সদর্থক বচন (Universal affirmative) – A
২) সার্বিক নঞর্থক বচন (Universal negative) – E
৩) বিশেষ সদর্থক বচন (Particular affirmative) – I
৪) বিশেষ নঞর্থক বচন (Particular negative) – O
বচন আকার
A- সকল মানুষ হয় মরণশীল All S is P
E- কোন কোকিল নয় সাদা No S is P
I- কোন কোন মহিলা হয় কবি Some S is P
O- কোন কোন মানুষ নয় সৎ Some S is not P
সুতরাং গুণ ও পরিমাণের যে সংযুক্ত নীতি, এর ভিত্তিতে অ্যারিস্টটল নিরপেক্ষ বচনকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। একে বলা হয় নিরপেক্ষ বচনের চতুরবর্গ পরিকল্পনা (4 Types of Categorical Proposition)। এই বচনগুলিকে যথাক্রমে A, E, I, O দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
i) সামান্য সদর্থক বচন (A) ii) সামান্য নঞর্থক বচন (E) iii) বিশেষ সদর্থক বচন (I) iv) বিশেষ নঞর্থক বচন (O)
সামান্য সদর্থক বচন : যে বচনের বিধেয় উদ্দেশ্যের সমগ্র ব্যক্তার্থকে স্বীকার করে তাকে সামান্য সদর্থক বচন বলে। যেমন – সকল মানুষ হয় মরণশীল।
সামান্য নঞর্থক বচন : যে বচনের বিধেয় উদ্দেশ্যের সমগ্র ব্যক্তার্থকে অস্বীকার করে তাকে সামান্য নঞর্থক বচন বলে। যেমন – কোন মানুষ নয় দেবতা।
বিশেষ সদর্থক বচন : যে বচনের বিধেয় উদ্দেশ্যের আংশিক ব্যক্তার্থকে স্বীকার করে তাকে বিশেষ সদর্থক বচন বলে। যেমন – কোন কোন মানুষ হয় স্বার্থপর।
বিশেষ নঞর্থক বচন : যে বচনের বিধেয় উদ্দেশ্যের আংশিক ব্যক্তার্থকে অস্বীকার করে তাকে বিশেষ নঞর্থক বচন বলে। যেমন – কোন কোন মানুষ নয় জ্ঞানী।
উপসংহার
পরিশেষে বলাই বাহুল্য কেবল গুণ নয় বা কেবল পরিমাণই নয়, গুণ ও পরিমানের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিভাগ (4 Types of Categorical Proposition) সর্বোপরি নিরপেক্ষ বচন এবং অবরোহ যুক্তিবিজ্ঞানকে অনন্য মাত্রা দেয়।
তথ্যসূত্র (References)
- History of Western Philosophy: B. Russell
- History of Modern Philosophy: R. Falckenberg
- A Critical History of Modern Philosophy: Y.H. Masih
- A History of Philosophy: F. Thilly
- A History of Modern Philosophy: W.K. Wright
- A Critical History of Western Philosophy: D.J. O’Connor
- Internet Sources
প্রশ্ন – নিরপেক্ষ বচনের চতুর্বর্গ পরিকল্পনাটি কার ?
উত্তর – নিরপেক্ষ বচনের চতুর্বর্গ পরিকল্পনাটি হল অ্যারিস্টটলের।
প্রশ্ন – বচনের বিরোধানুমান কয় প্রকার ?
উত্তর – বচনের বিরোধানুমান চার প্রকার – অসম বিরোধানুমান, বিপরীত বিরোধানুমান, বিরুদ্ধ বিরোধানুমান, অধীন-বিপরীত বিরোধানুমান।
প্রশ্ন – ‘O’ বচনে কোন পদ অব্যাপ্য ?
উত্তর – ‘O’ বচনে উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য।
প্রশ্ন – ‘E’ বচনে কোন পদ ব্যাপ্য ?
উত্তর – ‘E’ বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ ব্যাপ্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গিতে মানবতাবাদ | Discuss the Tagore Humanism
- মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো | Features of Mahatma Gandhi’s Non-Violence Policy
- কান্টের নৈতিকতা ও শান্তির মধ্যে সম্পর্ক | Kant’s Relationship Between Morality and Peace
- ব্যাপ্তি কাকে বলে | ব্যাপ্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় | What is Vyapti
- দর্শনের স্বরূপ আলোচনা করো | The Nature of Philosophy
Ami midil class ami vlo vabe exam dite pari amk help korun doya kore amk questions ta den please 🥺